Saturday, August 5, 2017

জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা; পর্ব-2 : পুরুষ প্রজনন অঙ্গ








পুরুষ প্রজনন অঙ্গ
যে অঙ্গসমূহ পুরুষের প্রজনন ক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে তাদের পুরুষ প্রজনন অঙ্গ বা মেল রিপ্রোডাকটিভ অরগান  বা পুরুষ যৌনাঙ্গ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় । মেল রিপ্রোডাকটিভ অরগান  বা পুরুষ প্রজনন অঙ্গ বা পুরুষ যৌনাঙ্গ সমূহ


ক) বাহ্যিক
১.  একটি পেনিস বা শিশ্ন বা পুরুষাঙ্গ
২.একটি স্ক্রোটাম বা অন্ডথলি

খ) আভ্যন্তরিন
১. এক জোড়া  (ডান ও বাম)টেস্টিস
২. এক জোড়া এপিডিডাইমিস
৩. এক জোড়া ভাস ডিফারেন্স
৪. এক জোড়া সেমিনাল ভেসিকল
৫. এক জোড়া ইজাকুলেটরি ডাক্ট
৬. একটি প্রোস্টেট
৭. এক জোড়া বাল্বো-ইউরেথ্রাল গ্ল্যান্ড





চিত্র:  পুরুষ প্রজনন অঙ্গ সমূহ




পুরুষ প্রজনন অঙ্গ সমূহের অবস্থান ও প্রধান কাজ 

ক) টেস্টিস:: অবস্থান- অন্ডকোষ অন্ডথলির অভ্যন্তরে। প্রধান কাজ - শুক্রানু (স্পার্মটোজোয়া) তৈরি, পুরুষের প্রজনন হরমোন নিঃসরন  । 

খ) স্ক্রোটাম: অবস্থান- অন্ডথলি পেরিনিয়াম নামক অঞ্চলে যা দুই উরুর মধ্যবর্তী স্থানে অবসি'ত। প্রধান কাজ -অন্ডকোষকে আবরন করে রাখে, অন্ডকোষকে  রক্ষা করে

গ) পেনিস বা শিশ্ন : অবস্থান- দুই উরুর মধ্যবর্তী স্থানে । প্রধান কাজ -পুরুষের জননক্রিয়ার অঙ্গ
ঘ) প্রোস্টেট : অবস্থান-ইউরিনারী ব্লাডারের (মূত্রথলি) নিকটে ইউরেথ্রার (মূত্রনালী) প্রথম অংশের চারপাশে।  প্রধান কাজ: প্রোস্টেটিক তরল নিঃসরন করে যা বীর্যের একটি উপাদান। 

ঙ) এপিডিডাইমিস: অবস্থান- টেস্টিস এর নিকটে। প্রধান কাজ -অন্ডকোষের অভ্যন্তর থেকে থেকে ভাজ ডিফারেন্স পর্যন্ত শুক্রানু বহন করে, শুক্রানুর ধারন হিসেবে কাজ করে।

চ) ভাজ ডিফারেন্স বা শুক্রনালী : অবস্থান- টেস্টিস থেকে ত্বকের নিচ দিয়ে ইনগুইনাল ক্যানেল নামক পথ অতিক্রম করে এবডোমেন (উদর গহবর বা পেটের অভ্যন্তরে) পর্যন্ত। প্রধান কাজ-এপিডিডাইমিস থেকে শুক্রানু ইজাকুলেটরি ডাক্ট পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যায়।

ছ) সেমিনাল ভেসিকল : অবস্থান-এবডোমেন -এর নিচের অংশে। প্রধান কাজ - বীর্যের একটি উপাদান হিসেবে কাজ করে, এর ফ্রুক্টোজ শুক্রানুর পুষ্টি যোগায়। 

জ) ইজাকুলেটরি ডাক্ট : অবস্থান- এবডোমেন -এর নিচের অংশে । প্রধান কাজ- উত্তেজনার সময় মুত্রনালীতে বীর্য পৌছে দেয়।

ঝ) বাল্বো-ইউরেথ্রাল গ্ল্যান্ড: অবস্থান - ইউরেথ্রার গোড়ার দিকে পিছনে ও পার্শ্ব দিকে অবস্থিত। এর প্রধান কাজ -যৌণ উত্তেজনা প্রাপ্ত হলে গ্ল্যান্ডদুটি স্বচ্ছ পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে এভাবে সঙ্গমক্রিয়ার সাহায্য করে (সঙ্গমপথকে পিচ্ছিল রাখে)। সিমেনের পরিমান বৃদ্ধির জন্য ক্ষরণ করে। 


পুরুষ প্রজনন কোষ
পুরুষ প্রজনন কোষকে শুক্রানু বলা হয়। এটি দেখতে কিছুটা ব্যাঙ এর বাচ্চার মত। এটি  টেস্টিস বা অন্ডকোষের অভ্যন্তরে  তৈরি হয়। টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনের প্রভাবে এটি তৈরি হয়। 



সাধারণ অনুবিক্ষণ যন্ত্রের নিচে শুক্রানুকে এমন দেখায়







চিত্র শুক্রানু



পুুরুষ প্রজনন হরমোন 
দেহের বৃদ্ধি বিকাশ ও ক্রিয়ার জন্য হরমোন অত্যাবশ্যক। মানব দেহে বিভিন্ন হরমোন রয়েছে যার ভিন্ন ভিন্ন কাজ রয়েছে। পুরুষের প্রধান প্রজনন হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। এটি টেস্টিসে (অন্ডকোষে) তৈরি হয়। এর প্রধান কাজ দেহকে পুরুষের ন্যায় গঠন দেয়া, পেশী ও হাড়কে মজবুত করা, প্রজনন অঙ্গ গুলোকে কর্মক্ষম করে তোলা ইত্যাদি। টেস্টোস্টেরন ছাড়াও আরও কিছু হরমোন রয়েছে যা পুরুষ প্রজননে ভুমিকা পালন করে। 



সিমেন বা বীর্য
সেমিনাল ভেসিকল , টেসটিস , প্রোষ্টেট এবং বালবো - ইউরেথ্রার  গ্ল্যান্ড- এর  ক্ষরনের  সমন্বয়ে  গঠিত তরল যা পুরুষের যৌন উত্তেজনার  সময়  মুত্রনালী মধ্যে দিয়ে নির্গত হয়। এই বীর্য
 নির্গত হওয়াকে ইজাকুলেশন বা স্খলন বা বীর্যপাত বলা হয়। প্রতি বীর্যপাতে প্রায় 2-5 মিলি সিমেন বা বীর্য নির্গত হয়। সিমেন বা বীর্যের উপাদানগুলো হলো 
     ক) স্পার্মাটোজোয়া বা শুক্রানু  (প্রতি স্খলনে প্রায় 60-150 মিলিয়ন ),
     খ) সেমিনাল ভেসিকল , প্রোষ্টেট এবং বালবো - ইউরেথ্রার  গ্ল্যান্ডের নিঃসরন। 


সিমেন বা বীর্য গঠন প্রক্রিয়া
সিমেন গঠনের প্রক্রিয়াকে নিম্নভাবে পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে ।
প্রথমে টেস্টিস হতে স্পার্মাটোজোয়া বা শুক্রানু নির্গত হতে থাকে এবং এপিডিডাইমিসে গিয়ে জমা হয় ।
এর পর এপিডিডাইমিস হতে ভাস ডিভারেন্সের মধ্যে দিয়ে স্পার্মাটোজোয়া সেমিনাল ভেসিকলে পৌছায় এবং সেখানে সেমিনাল ফ্ল ‍ুইডের ( সেমিনাল ভেসিকলের সৃষ্ট তরল) সাথে মিশ্রিত হয়।
উপরোক্ত মিশ্রন পরবর্তীতে ইজাকুলেটরি ডাক্ট হয়ে ইউরেথ্রাতে পৌছায় এবং এখানে প্রোস্টেটিক ফ্ল ‍ু ইডের (প্রোস্টেট কর্তৃক সৃস্ট তরল) সাথে মিশ্রিত হয়।
উপরোক্ত মিশ্রন পরবর্তীতে মুত্রনালীতে বাল্বোইউরেথ্রাল গ্ল্যান্ড নিঃসৃত তরলের সাথে মিশ্রিত হয়।
এর পর এই সিমেন ইজাকুলেশনের মাধ্যমে বাইরের দিকে বের হয়ে যায়।

পুরুষ যখন যৌণক্রিয়া করতে থাকে তখন তার পরিতৃপ্তি হলে সিমেন তৈরি শুরু হয় । এ ক্ষেত্রে এপিডিডাইমিস হতে মুত্রনালী পর্যন্ত বহিমুখী সন্চালন ঘটতে থাকে ।  ফলশ্রুতিতে সিমেন বা বীর্য
বাইরে বেরিয়ে আসে।





চিত্র: সীমেন তৈরি ও নিস্কাশনের প্রক্রিয়া





পুরুষের যৌনক্রিয়া
প্রাকৃতিক ভাবে মানব প্রজননের জন্য যৌনক্রিয়া/যৌন মিলন আবশ্যক। এই যৌনমিলনে পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের ভুমিকা রয়েছে। পুরুষের যৌনক্রিয়ার পর্যায় সমুহ-

ক) পেনিস বা শিশ্নের উত্থান (দৃঢ় ও দীর্ঘ হওয়া) : যৌণ উত্তেজনার  (স্পর্শ, দর্শন, শ্রবণ বা মানসিক ) উপস্থিতিতে পেনিসের আর্টারীসমূহ প্রসারিত হয় এবং ইরেকটাইল টিস্যুর মাঝে রক্ত প্রবেশ করতে থাকে। ফলে ইরেকটাইল টিস্যু সমূহ দীর্ঘাকার ও প্রসস্ত হতে থাকে এবং অস্থায়ীভাবে এর ভেনাস ডেনেজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এভাবে পেনিস দীর্ঘ, প্রসস্ত ও দৃঢ় হয়। এ অবস্থাকে পেনিসের ইরেকশন (উত্থান) বলা হয়। 

খ) পিচ্ছিল করন: মুত্রনালীর ও বালবোইউরেথ্রাল গ্ল্যান্ড হতে নিঃসৃত ক্ষরন দ্বারা। এর ফলে সঙ্গমপথ পিচ্ছিল হয় যাতে সঠিকভাবে সঙ্গম ক্রিয়া করা যায়। 

গ) সঙ্গম: ভ্যাজাইনার (স্ত্রী সঙ্গম অঙ্গ) অভ্যন্তরে প্রবেশ করণ এবং সেখানে অবস্থানরত অবস্থায়  পেনিসের ভেতরগামী দিকে ও বহির্গামী সঞ্চালন। 

ঘ) প্রেরণ ও স্খলন: ভ্যাজাইনাতে পেনিস সঞ্চালন করতে থাকলে পুরুষের যৌনতৃপ্তি ( স্নায়বিকভাবে) আসে এবং যৌণতৃপ্তি হলে এপিডিডাইমিস হতে মুত্রনালী পর্যন্ত বহিমুখী সন্চালন ঘটতে থাকে ফলে মুত্রনালীতে  সিমেন (বীর্য) পৌছে যায় এবং সিমেন (বীর্য) মুত্রনালী থেকে বাইরে বের হয়ে আসে অর্থাৎ ইজাকুলেশন বা  স্খলন  বা বীর্যপাত ঘটে।  ইজাকুলেশন বা স্খলন বা বীর্যপাতের  স্বাভাবিক সময়  ( ভ্যাজাইনাতে পেনিস সঞ্চালনরত অবস্থায় )  ৩-৫ মিনিট। 



পুরুষের প্রজননক্ষম হওয়ার লক্ষণ

পুরষ প্রজনন হরমোনের প্রভাবে  বয়সন্ধিকালে মানবদেহে কিছু শারীরিক বা আচরণগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় যা তার প্রজনন সক্ষমতাকে নির্দেশ করে।  এই পরিবর্তনগুলো হলো-

  1. বাহ্যিক জননাঙ্গের বৃদ্ধি
  2. পেনিস (শিশ্ন বা পুরুষাঙ্গ বা পুরুষ লিঙ্গ) দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে' বৃদ্ধি পায়। পেনিসের ইরেকশন ক্ষমতা (উত্থিত বা শক্ত হওয়া) বৃদ্ধি পায়। 
  3. স্ক্রোটাম বা অন্ডথলির বর্ণ পরিবর্তন হয় এবং ভাজ বিশিষ্ট হয়।
  4. আভ্যন্তরিন জননাংগের বিকাশ ও বৃদ্ধি ঘটে। 
  5. কন্ঠস্বরের পরিবর্তন- স্বর গভীর/ভারী হয়।
  6. লোম উদ্গমন-দাড়ি, গোঁফ; বগলের লোম , নাভীর নিচের লোম, দেহের অন্যান্য স্থানের লোম। 
  7. দেহ গঠন- পেশীর বৃদ্ধি, কাঁধ প্রসস্ত হয়।
  8. ত্বকের পরিবর্তন- সিবাসিয়াস গ্রনি'র ক্ষরন বেড়ে যায় ফলে ত্বক তৈলাক্ত হয়, ব্রণ দেখা যায়। 
  9. মানসিক পরিবর্তন- বিপরীত লিঙ্গের (নারীদের) প্রতি আকর্ষন। 


স্বপ্ন দোষ বা ঘুমের মধ্যে ইজাকুলেশন বা বীর্যপাত হওয়া (কিংবা অন্য কোন ভাবে বীর্য পাত হওয়া ) একটি  সুনিশ্চিত লক্ষণ। তবে স্বপ্নদোষ ( বীর্যপাত )  না হলেও যদি উপরোক্ত লক্ষণ থাকে তবেও সে পুরুষকে প্রজননক্ষম বলা যেতে পারে।



এই পর্বের এখানেই সমাপ্তি । আগামী পর্বে রয়েছে স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কে ধারণা। 



সতর্কীকরণ 

[ সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত; কপিরাইটকৃত রচনা।  রচয়িতার লিখিত অনুমতি ব্যতিত এই রচনা বা এর কোন অংশ বিশেষের অনুবাদ বা কোন প্রকারে এর অনুলিপি (যেমন- মুদ্রণ, ফটোস্ট্যাট, কম্পিউটার কম্পোজ বা অন্য কোন উপায়ে) তৈরি, সংরক্ষণ, বিক্রয়, বিতরণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে কোন পুস্তকে বা প্রকাশনায় ব্যবহার কিংবা ওয়েব সাইটে প্রকাশ বাংলাদেশ কপিরাইট আইন ২০০৫ অনুযায়ী  শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।  ] 

তবে কোনরূপ পরিবর্তন না করে লিংক হিসেবে ফেসবুকে বা ইন্টারনেটে শেয়ার করা যাবে। 
কপি-পেস্ট আইনত দন্ডনীয় বলে বিবেচিত হবে ।





Friday, August 4, 2017

জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা পর্ব:-1 ঃ প্রজনন সম্পর্কে ধারণা


প্রজনন : 
প্রতিটি জীবই তার পরবর্তী বংশধর তৈরি করতে পারে। এই পরবর্তী বংশধর তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রজনন বলা হয়।

প্রজনন -এর পদ্ধতি সমূহ
প্রজননের পদ্ধতি সমূহকে নিম্নলিখিত ভাবে বিভক্ত করা যেতে পারে।

ক) অযৌন প্রজনন : এ ক্ষেত্রে একটি জীব নিজেই প্রজননের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। 

খ) যৌন প্রজনন : যৌন প্রজননের জন্য একই প্রজাতির দুই ধরনের জীবের প্রয়োজন হয়। একজন হলো পুরুষ অপরজন স্ত্রী। জীব দেহে যৌন প্রজননের জন্য অঙ্গ থাকে  এবং পুরুষ ও স্ত্রী প্রজনন অঙ্গগুলো ভিন্নতর। প্রজননের জন্য দু ধরনের বিশেষ কোষ-এর প্রয়োজন হয়। সাধারনত পুরুষের প্রজনন কোষকে শুক্রানু ও স্ত্রী কোষকে ডিম্বানু বলা হয়।   যৌন প্রজননে এই শুক্রানু ও ডিম্বানু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এই জাইগোট  শিশুতে রূপান্তরিত হয়। এই শিশু স্ত্রী জীবের অভ্যন্তরে লালিত হয় এবং বাইরের পরিবেশে আশার মত উপযোগী হলে বাইরে বেরিয়ে আসে ( সাধারণত প্রাণির বেলায় এটি বেশি ঘটে)। এই শুক্রানু ও ডিম্বানু মিলনের জন্য প্রাণির ক্ষেত্রে যৌন মিলনের প্রয়োজন হতে পারে। 




[ জীব : যার জীবন আছে তারাই জীব। জীবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট বংশবিস্তার অর্থাৎ প্রজনন করা। মূলত দু ধরনের জীব রয়েছে ক) উদ্ভিদ বা গাছ খ) প্রাণি।

[ প্রাণি :  প্রাণির কোষগুলো উদ্ভিদ থেকে ভিন্নতর গঠনের । প্রাণি দেহগুলো উদ্ভিদ দেহ থেকে অনেক উন্নত ।]

[ কোষ: প্রতিটি জীব দেহ অতি ক্ষুদ্র এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। জীব দেহের গঠন ও এর  সমস্ত ক্রিয়া কোষের মাধ্যমে ঘটে। বহুকোষ বিশিষ্ট জীবে বিভিন্ন আকারের, ভিন্ন ভিন্ন ক্রিয়া সাধনের জন্য কোষ রয়েছে।  যেমন -দেহ গঠনের জন্য বিভিন্ন ধরনের দেহ কোষ ও প্রজননের জন্য জনন কোষ। ]

[ অঙ্গ : জীব দেহে বিভিন্ন ধরনের কোষ একত্রিত হয়ে একটি অঙ্গ গঠন করে। একটি অঙ্গ এক বা একাধিক ক্রিয়া সাধনের জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে। একটি জীব দেহে কোন একটি অঙ্গ একটি বা একাধিক থাকতে পারে।  ]

[ যৌন মিলন : জাইগোট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী প্রাণি পরস্পরের সংস্পর্শে  আসলে তাকে যৌন মিলন বলা হয়। অনেক যৌনমিলনের ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রীর নির্দিস্ট প্রজনন অঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। ]


 মানব প্রজনন
মানব  জাতি যৌন প্রজননের মাধ্যমে প্রজনন ক্রিয়া সম্পাদন করে। মানব প্রজননের জন্য কিছু বিশেষ অঙ্গের প্রয়োজন রয়েছে’ যে অঙ্গগুলোকে  প্রজনন অঙ্গ বলা হয়।   মানব  প্রজননের জন্যও দু ধরনের কোষ প্রয়োজন। পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রানু  স্ত্রীর ক্ষেত্রে ডিম্বানু। মানব প্রজননের ক্ষেত্রে যৌন মিলনের প্রয়োজন রয়েছে।  মানব  যৌনমিলনের ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রীর নির্দিস্ট প্রজনন অঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে আসে। প্রজননে জন্ম নেয়া শিশু স্ত্রীর অভ্যন্তরেই লালিত হয়  এবং বাইরের পরিবেশে আশার মত উপযোগী হলে স্ত্রী দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে।  




এই পর্বের এখানেই সমাপ্তি । আগামী পর্বে রয়েছে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কে ধারণা। 



সতর্কীকরণ 

[ সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। রচয়িতার লিখিত অনুমতি ব্যতিত এই রচনা বা এর কোন অংশ বিশেষের অনুবাদ বা কোন প্রকারে এর অনুলিপি (যেমন- মুদ্রণ, ফটোস্ট্যাট, কম্পিউটার কম্পোজ বা অন্য কোন উপায়ে) তৈরি, সংরক্ষণ, বিক্রয়, বিতরণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে কোন পুস্তকে বা প্রকাশনায় ব্যবহার কিংবা ওয়েব সাইটে প্রকাশ বাংলাদেশ কপিরাইট আইন ২০০৫ অনুযায়ী  শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।  ] 

তবে কোনরূপ পরিবর্তন না করে লিংক হিসেবে ফেসবুকে বা ইন্টারনেটে শেয়ার করা যাবে। 
কপি-পেস্ট আইনত দন্ডনীয় বলে বিবেচিত হবে ।

Thursday, August 3, 2017

জাতীয় ভিটামিন ’এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, আগস্ট 5, 2017


আপনার শিশুকে (6 -59 মাস বয়সি) ভিটামিন ’এ’ খাওয়াতে অবশ্যই ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে আসুন
এবং কিছু সতর্কতা মেনে চলুন....














ভিটামিন ‘এ’ যে শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। 

আপনি যেখানেই থাকুন না কেন দেশের যে কোন ক্যাম্পেইন কেন্দ্র থেকে আপনার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান। ভ্রমণে থাকাকালীন আপনি রেল ষ্টেশনে, বাস ষ্ট্যান্ডে, ফেরি ঘাটে ও লঞ্চ টার্মিনালে অবস্থিত ক্যাম্পেইন কেন্দ্র থেকে আপনার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবেন। 



ভিটামিন এ ক্যাপসুল সম্পর্কিত নিম্নলিখিত সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলুন নইলে আপনার শিশুর ক্ষতি হতে পারে-
ক) কোন অবস্থাতেই 6 মাসের কম বয়স্ক শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। 
খ) 5 বছরের বেশি বয়সের শিশুদের খাওয়ানো যাবে না। 
গ) বাড়িতে ক্যাপসুল নিয়ে এসে শিশুকে খাওয়ানো যাবে না। 
ঘ) কোন শিশুকে একাধিক খাওয়ানো যাবে না।
ঙ) বিগত চার মাসের মধ্যে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো থাকলে খাওয়ানো যাবে না। যদি শিশুর ইপিআই টিকা চলমান হয় তবে   শিশুর টিকাদান কার্ড খেয়াল করুন। কারন ইপিআই টিকার সাথেও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হতে পারে। 

মারাত্বক অসুস্থ শিশুকে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর্মী/চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।



মনে রাখবেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল কখনোই বাড়িতে নিজে নিজে  শিশুকে খাওয়াবেন না। অবশ্যই শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অবশ্যই  ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে । 

বিশেষ সতর্কতা: কৌতুহল বশত প্রাপ্ত বয়স্কগন বিশেষত গর্ভবতীগন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবেন না। এই উচ্চ শক্তির ভিটামিন  ই ক্যাপসুল গর্ভস্থ শিশুকে বিকলাঙ্গ করতে পারে। 

ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম

শিশুর ছয়মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ান

শিশুর ছয়মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ান 








১ আগষ্ট থেকে ৭ আগষ্ট পর্যন্ত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। ১ আগষ্ট মাতৃদুগ্ধ দিবস

শিশুর জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে এবং  ছয়মাস বয়স পর্যন্ত  শুধু মায়ের বুকের দুধই দিতে হবে । এ সময়ে শিশুকে পানি খাওয়নোরও প্রয়োজন নেই। যদি শিশু সঠিক ভাবে বাড়ে ও দিনে ছয়বারের বেশি প্রস্রাব করে তবে ধরে নিতে হবে শিশু সঠিক ভাবেই মায়ের বুকের দুধ পাচ্ছে।

তাই যদি শিশু ছয়বারের বেশি প্রস্রাব করে তাহলে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। বাড়তি কোন প্রকার খাবার যেমন- গরুর দুধ, বাজারের কৌটার দুধ প্রয়োজন নেই। এতে শিশুর উপকার না হয়ে ক্ষতি হতে পারে। 

যদি কোন কারনে মনে হয় শিশু সঠিক ভাবে খাবার পাচ্ছে না (ছয় বারের কম প্রস্রাব, মায়ের অসুস্থতা, মায়ের স্তনদুগ্ধের অপ্রতুলতা, শিশুর ঘন ঘন অসুস্থতা, শিশুর অপুষ্টি, বৃদ্ধি ব্যহত ইত্যাদি) তবে অবশ্যই শিশু বিশেষঙ্গের পরামর্শে নিয়ে তারপর বাইরের খাবার দিতে হবে।  এম বি বি বিএস বা সমমানের চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিত অন্য কারো পরামর্শে কখনোই ছয়মাসের কম বয়স্ক শিশুকে বাইরের খাবার (গরুর দুধ, কৌটার দুধ ইত্যদি) খাওয়ানো যাবে না। 

আরেকটি কথা প্রতি মাসেই শিশুর পুষ্টি অবস্থা, বৃদ্ধি ও বিকাশ পরীক্ষা করাতে হবে। 



বিনামূল্যে শিশু পুষ্টি সম্পর্কিত যে কোন পরামর্শের জন্য যোগাযোগ 

এম.এইচ.এস. স্বাস্থ্য কেন্দ্র । 
নতুন বাসস্ট্যান্ড (মীরগন্জ রোড), শেরপুর টাউন, শেরপুর। 
মোবাইল : 01955 400 939 















পোকামাকড়ের দংশনের ফলে সৃষ্ট জীবন বিপন্নকর অবস্থা সম্পর্কে জানুন..

পোকামাকড়ের দংশনের ফলে সৃষ্ট জীবন বিপন্নকর অবস্থা সম্পর্কে জানুন..






আমাদের চারপাশে অনেক ধরনের পোকামাকড় রয়েছে। কখনো কখনো মানুষ এদের কিছু কিছু দ্বারা আক্রান্ত হয়। সাধারণ ভাষায় একে পোকার মাকড়ের দংশন হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে সকল পোকামাকড় দংশন করে না। কিছু দংশন করে বা কিছু হুল বিদ্ধ করে। এধরনের পোকামাকড়ের মধ্যে রয়েছে; মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল, মাকড়শা, বিচ্ছু ইত্যাদি।

মৌমাছি ও এ জাতীয় পোকামাকড় (ভীমরুল, বোলতা) হুল ফোঁটায়। মৌমাছির হুলের ফলে একটি প্রাণঘাতী অবস'া এনাফাইলেক্সিস সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ধরনের হুলে আক্রান্ত ব্যক্তির যথাযথ ব্যবস'াপনা প্রয়োজন।

যেকোন ধরনের ধরনের পোকা মাকড়ের হুল বিদ্ধকরণ বা দংশনের বিপদের লক্ষণ ও চিহ্নসমূহ-
এই লক্ষণ ও চিহ্ন সমূহ দংশনের ৩০ মিনিটে মধ্যে বা ৩-৪ ঘন্টা পরে দেখা যেতে পারে। এই লক্ষণ ও চিহ্ন সমূহ এনাফাইলেক্সিসের (একটি প্রাণঘাতী অবস'া) সূচনা নির্দেশ করে । যদি এই লক্ষণগুলো দেখা যেতে শুরু করে তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হবে আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত বেশী হবে। লক্ষন ও চিহ্নসমূহ হলো
১. সারা (ও জ্বালা) দেহে তাপ অনুভব করা ।
২. সারা দেহে চুলকানীযুক্ত লাল লাল র্যা স ( সাধারণ ভাষায় এলার্জি ভেসে উঠা ) দেখা যাওয়া।
৩. মাথাব্যথা।
৪. গলায় আঢ়ষ্টতা (গলায় চাপ চাপ বোধ)।
৫. শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট।
৬. রক্ত চাপ কমে যাওয়া।
৭. আক্রান্ত ব্যক্তির অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

এছাড়াও দংশনের 24 ঘন্টার মধ্যে শরীরে, মুখে, ঠোটে, চোখের পাতায় পানি আসাও বিপদের লক্ষণ হতে পারে। এমতাবস্থায়ও রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে।

এ ধরনের জরুরী অবস্থায় করনীয় সম্পর্কে জানতে ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ নিন .. নিজের, পরিবারের ও সমাজের কল্লানে এগিয়ে আসুন।

ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম

বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ

বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ



আপনারা 5-7 জন বন্ধুদের নিয়ে একত্রিত হতে পারলে… বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ

প্রতিটি সচেতন শিক্ষিত ব্যক্তি বিশেষত নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক।

বাংলাদেশে ও ভারতে পঠিত ১০০ এর অধিক মেডিকেল বিষয়ক বইয়ের লেখকের -তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি চলছে ।

এই প্রাথমিক চিকিৎসা (ফার্স্ট এইড)কোর্সে যা রয়েছে-
1. জ্বর মাপা, প্রেসার মাপা শেখা।
2. গর্ভবতীর সাধারণ যত্নাদি।
3. নবজাতক ও শিশুর সাধারণ যত্নাদি।
4. বিভিন্ন রোগ ও রোগাবস্থা প্রতিরোধে করণীয়। যেমন- টায়ফয়েড, জন্ডিস, হৃদ রোগ, ডায়বেটিস, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, ক্যান্সার ইত্যাদি।
5. বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা। যেমন- জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদি।
6. বিভিন্ন জরুরী অবস্থার প্রাথমিক চিকিৎসা । যেমন- কেটে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া, আঘাত লাগা, পোকা মাকড়ের কামড়, বিদ্যুৎ স্পর্শ হওয়া ইত্যাদি।

প্রশিক্ষনের মেয়াদ চার দিন। প্রতিদিন 2 ঘন্টা।

যোগাযোগ:
পরিচালক
এম.এইচ.এস. স্বাস্থ্য কেন্দ্র ।
নতুন বাসস্ট্যান্ড (মীরগন্জ রোড), শেরপুর টাউন, শেরপুর।
মোবাইল : ০১৭১৫ ১০৮ ৯৯৯।

সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন ( পর্ব-4, হার্বাল চিকিৎসক )

সঠিক যোগ্যতার ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তো ? ... ডাক্তার চিনে নিন ( পর্ব-4 ) 
হার্বাল চিকিৎসক







(ধারাবাহিক রচনার চতুর্থ ও শেষ পর্ব)
আমরা রোগাক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহনের জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্ত আমরা কি বুঝি কোন ডাক্তারের যোগ্যতা কতখানি? সঠিক যোগ্যতার ডাক্তার নির্বাচন না করলে হয়ত রোগীর অযথা ভোগান্তি হতে পারে। তাই ডাক্তারদের যোগ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।


হার্বাল চিকিৎসক

হার্বাল বা গাছ-গাছড়া দ্বারা চিকিৎসা সবচেয়ে প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা। আমাদের দেশে ইউনানী ও আয়ুবের্দী (ভারতীয় কর্তৃক উদ্ভাবিত) এই দুটি স্বীকৃত হার্বাল চিকিৎসা ব্যবস'া রয়েছে। এই চিকিৎসা ব্যবস'ায়ও মূলত তিন ধরনের যোগ্যতার চিকিৎসক রয়েছেন। যথা-
ক) সার্টিফিকেটহীন সাধারণ চিকিৎসক : সাধারণ ভাষায় আমরা এদের কবিরাজ হিসেবে অবহিত করে থাকি। এ ধরনের চিকিৎসকগণ নিজেরা ঔষধ তৈরি করেন ও বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ বিক্রয় করেন। এ ধরনের চিকিৎসকবৃন্দের জ্ঞান সীমিত এবং শুধু মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের অতি সাধারণ রোগ চিকিৎসার উপযুক্ত।
খ) ডিপ্লোমা: আমাদের দেশে ডি.ইউ.এম.এস (ইউনানী) এবং ডি.এ.এম.এস (আয়ুর্বেদী) দ্বারা হার্বাল ডিপ্লোমা বোঝানো হয়। এ ধরনের চিকিৎসকগণ বাংলাদেশের বিভিন্ন ’ডিপ্লোমা ইউনানী ও আয়ুবের্দী কলেজ’ হতে কোর্স সম্পাদন করে ’ইউনানী ও আয়ুবের্দী বোর্ড’ স্বীকৃত সনদ লাভ করেন। এ ধরনের চিকিৎসকগন সাধারণ রোগের চিকিৎসা করার যোগ্যতা রাখেন। এ ধরনের চিকিৎসকের নিকট জটিল রোগের চিকিৎসা ( অর্শ্ব, যৌণ রোগ, এজমা, ডায়বেটিস ইত্যাদি)না করানোই ভালো।
গ) এমবিবিএস সমমান বা স্নাতক : আমাদের দেশে বি.ইউ.এম.এস (ব্যাচেলর অব ইউনানী মেডিসিন এন্ড সার্জারী) এবং বি.এ.এম.এস (ব্যাচেলর অব আয়ুর্বেদীক মেডিসিন এন্ড সার্জারী) ডিগ্রীকে এমবিবিএস সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের চিকিৎসকগণ দেশের একমাত্র ’সরকারী ইউনানী আয়ুর্বেদীক মেডিকেল’ কলেজ হতে ৬ বছর মেয়াদী কোর্স (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রিত) সম্পাদন করার পর ’স্বাস'্য অধিদপ্তর’ হতে রেজিস্ট্রেশন লাভ করেন। এটিই বাংলাদেশে হার্বাল চিকিৎসা ব্যবস'ায় সর্বোচ্চ ডিগ্রী। তাই হার্বাল চিকিৎসার জন্য এ ধরনের চিকিৎসকই উপযুক্ত।
এ ধরনের চিকিৎসকদের জন্য স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের সূযোগ সুবিধা বি.এইচ.এম.এস ( হোমিওপ্যাথিতে এমবিবিএস সমমান) ডিগ্রীধারীদের অনুরূপ।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে ( উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) এ ধরনের চিকিৎসক ’মেডিকেল অফিসার’ হিসেবে কর্মরত আছেন।
ভাল হারবাল চিকিৎসক যেভাবে চিনবেন
আমাদের দেশে হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারনা বেশি হয় । তাই বলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভাল মানের চিকিৎসক খুঁজতে হবে। হোমিওপ্যাথিক নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু নির্দেশনা-
 এমবিবিএস সমমান (বিএএমএস/বিইউএমএস)ডিগ্রী ডিগ্রীধারী চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নেয়াই উত্তম।
 হামদর্দ, সাধনা, শক্তি ইত্যাদি উন্নত ঔষধ প্রস্ততকারকের বিক্রয়কেন্দ্রের চিকিৎসক গন সাধারনত ভাল। 
 যে চিকিৎসক আপনার টেষ্ট রিপোর্ট ভাল ভাবে বোঝে না তার নিকট জটিল রোগের চিকিৎসা না নেয়াই উত্তম।
 যে চিকিৎসক বলে টেস্ট করার প্রয়োজন নেই তার নিকট চিকিৎসা না নেয়াই উত্তম।
 এলোপ্যাথিক চিকিৎসক যে ঔষধ খেয়ে যেতে/ ব্যবহার করতে ( যেমন ইনসুলিন ) বলেছেন সে ঔষধ কোন চিকিৎসক হঠাৎ করে বন্ধ করতে বললে সেই চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা নেয়া যাবে না। 
 যে চিকিৎসক আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করতে চাইবে তার কাছে কখনোই চিকিৎসা নেয়া যাবে না।



ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম